শনিবার, ২৫ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

একজন সেনাসদস্য হিসেবে আমি লজ্জিত ও জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী



আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাধারন অফিসার, আমি আমার সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতার সমন্বয়ে বিগত কয়েক বছর যাবত দেশসেবার ব্রত নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিজের শ্রম ও মেধা দ্বারা কাজ করে আসছি, চাকুরীর বয়স ও পদ অনুসারে আমি মধ্যম পর্যায়ের একজন অফিসার এবং আগামী বছর হয়তবা আমি আমার পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি সেনাবাহিনীতে যোগদানের পূর্বে একটি স্বনামধন্য ক্যাডেট কলেজে অধ্যয়ন করেছি ও সাফল্যের সাথে আমার শিক্ষাবোর্ডে এস এস সি এবং এইচ এস সি তে মেধাতালিকায় স্থান নিয়ে ক্যাডেট কলেজের শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি অন্ধভাবে অনুরক্ত নই এবং কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার তীব্র কোনো বিরক্তিও নেই । তবে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিই আমার শ্রদ্ধা ও ব্যক্তিগত অন্তর্নিহিত সমালোচনা রয়েছে। একজন সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে আমি শুধু আমার উপর অর্পিত দ্বায়িত্ব ও কর্তব্যের জন্য যে বিষয় গুলোর উপর জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা উচিত সেসব বিষয়ের উপরই আজ পর্যন্ত জোড় দিয়ে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষন নিয়েছি এবং সেসব বিষয়ে এক্সপার্টাইজ গ্রো করে মাস্টার হওয়ার চেষ্টা করেছি। সেনাবাহিনীর চাকরীটিকে আমি নিছক একটি চাকরী হিসেবে না নিয়ে প্যাশণ হিসেবেই নিয়ে আসছিলাম। আমার শয়নে স্বপনে সব সময়ই সেনাবাহিনীর দৈনন্দিন কর্মকান্ড নিয়ে ডুবে থাকতাম, এজন্য আমি আমার পরিবার ও বন্ধুমহলে কিছুটা অসামাজিক হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছি, সেনাহিনীর ইথোস,ভ্যালুস, মোরাল, প্রিন্সিপল, ডিগনিটি প্রাইড ইত্যাদি রক্ষার খাতিড়ে কোনোদিন কোনো অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকান্ড যেমন সুপারিশ, স্বজনপ্রীতিও করিনি যার জন্য পরিবার, বন্ধুমহল, আত্নীয়পরিমন্ডল ও আমার পরিচিত সমাজে আমি কিছুটা ঘৃনিতও বটে । তবে আমার সেনাবাহিনীর চাকুরী সংশ্লিষ্ট ইউনিট, সংস্থাসমুহে কাজের সময় আমার অধীনস্থ ও উর্ধবতনদের সাথে বিভিন্ন কর্মকান্ডে মানুষ হিসেবে অনেক ভুল ত্রুটি থাকতে পারে, যেহেতু সর্বোপরি আমি একজন সাধারন মানুষ। আমি ইতোপূর্বে সামরিক কর্মকান্ড ছাড়াও বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিয়োজিত ছিলাম এছাড়া জাতিসংঘে দুইবার শান্তিরক্ষী হিসেবে আফ্রিকার দুটি দেশে দুইবছর লাল সবুজের পতাকা বহন করে সফলতার সাথে কার্যসম্পাদন করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি সমুন্নত ও ভদ্র জাতি হিসেবে হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছি।

আমার সেনাবাহিনী সম্পর্কে জাতির নিকট কিছু কনফেশনঃ
এতদিন যাবত সেনাবাহিনীকে আমি একটি প্রায় ৯০%নিরপেক্ষ একটি বাহিনী হিসেবেই জেনে আসছিলাম, আমার চাকুরীজীবনে ইতোপূর্বে আমি জেনারেল মঈন, জেনারেল মবিন, জেনারেল ইকবাল করিম ভুইয়া,জেনারেল বেলাল কে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে পেয়েছি, বর্তমানে জেনারেল আজিজ আমার বাহিনীর চীফ। আমার বিগত জীবনের চাকুরীতে সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যকে ইনফরমালী ,পারসোনালী এবং সেক্রেটলী রাজনৈতিক লোকজন ও রাজনীতির সমালোচনা ও প্রশংসা করতে শুনেছি দেখেছি তবে কাউকে ভরা ফোরামে, ফরমালি ও অফিসিয়ালী কাউকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করতে দেখিনি। আওয়ামীলীগ হোক বিএনপি হোক কিংবা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দল হোক সেনাবাহিনী সবসময়ই মাঠে কিংবা সেনানিবাসে নিরপেক্ষ ভুমিকাই বজায় রেখে আসছিল, বিগত তিন সেনাপ্রধান আওয়ামীলীগ সরকারের মনোনীত হলেও কখনো এতটা ন্যাক্কারজনক ও নির্লজ্জভাবে রাজনৈতিকভাবে বায়াসড হওয়ার জন্য নির্দেশিত হয়নি। কিন্তু আজ অত্যন্ত দুঃখের ও লজ্জার সাথে বলতে হচ্ছে আমাদের কলংকিত সেনাপ্রধান এত বড় একটি সুশৃংখল বাহিনীকে তার ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করছেন একটি মহলকে খুশি রাখার জন্য, নিজে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য কিংবা সরকার ইতোমধ্যে তাকে যেসব অনৈতিক সুবিধা দিয়েছ তার প্রতিদান দেয়ার জন্য । বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতিক এই সেনাবাহিনী কোনো দল বা গোষ্ঠীর লেজুড়বৃত্তি কিংবা এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়, আমরা সমগ্র দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্যই নিয়োজিত থাকার কথা, সে যে মতাদর্শেরই হোক , যে দলেরই হোক্যে ধর্মেরই হোক। আমার প্রতি মাসের বেতনে এদেশের প্রতিটি মানুষের কন্ট্রিবিউশন আছে, আমি যদি মোট জনগোষ্ঠীর একাংশের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করি তাহলে আমার বেতনের সিংহ ভাগই হারাম এবং আমাদেরকে আমাদের সেনাপ্রধান জোড়পূর্বক নাক টিপে হাত পা বেধে এই হারাম খাওয়ার জন্য বাধ্য করছেন, এবং আমরা সবাই হারামখোর সেনাবাহিনী। কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলছি সেনাবাহিনীর ৯৫% সদস্য এই হারাম খাওয়ার বিপক্ষে এমনকি অনেক সেনা সদস্য আছেন যারা ব্যক্তিগত ভাবে আওয়ামী পরিবার থেকে এসেছেন, ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামীলীগের সমর্থক এবং ভোট দেয়ার সুযোগ থাকলে আওয়ামীলীগেই দিতেন তারাও আজকে আমরা যেই ভূমিকা পালন করছি তাতে ক্ষুব্ধ, লজ্জিত । তাদের অনেকে এমন কথাও বলেছেন যে সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও তো আওয়ামীগ জেতার জোর সম্ভাবনা আছে তাহলে কেন এরকম করা্নো হচ্ছে আমাদের দিয়ে, সেনাপ্রধান হুদাই অতি উতসাহ নিয়ে আমাদের ইউনিফর্মটাকে কলংকিত করছেন। মানুষ শুধু তার একটা ভোট দিয়ে নাগরিক হিসেবে আত্ন তৃপ্তি পাবে সেজন্য তীর্থের কাকের মত আমাদের দিকে এত দিন তাকিয়ে ছিল, অথচ আমাদের কলংকিত সেনাপ্রধান এদেশের মানুষের আমাদের প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভরসা ছিল তার গোড়ার শুধু কুঠারাঘাতই করেননি সেটাকে সমুলে উতপাটন করে রোদে শুকিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। জেনারেল আজিজ ও তার সাংগপাংগ অন্যান্য জেনারেল যেমন জেনারেল আকবর, জেনারেল ওয়াকার, জেনারেল শফি, জেনারেল সিদ্দিক, জেনারেল নাজিমসহ আরো কিছু নীতিহীন ভন্ড হিপোক্রিট অফিসারের কোরাম (মোট সেনাবাহিনীর .০১%ও না )সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একটি শাখা সংগঠন বানিয়ে ফেলেছে, ব্যাপারটা এরকম যে জেনারেল আজিজ বাংলাদেশ সেনালীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামীলীগের অন্যান্য শাখা সংগঠনের নেতাদের মত তিনিও এখন সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে শেখ হাসিনার সালাম দিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট চাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনের জন্য ডিপ্লয়েড হওয়ার আগে তিনি সকল ফরমেশন কমান্ডারকে যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলো পরবর্তীতে ব্রিগেড কমান্ডারগন যখন ব্যাটালিয়ন অধিনায়কদের কাছে দিচ্ছেন তখন তারা আগে থেকেই নিজেকে এই কলংকিত, কলুষিত কর্ম থেকে নিজেকে নিষ্পাপ রাখার জন্য বলে নিচ্ছেন যে দিস ইজ অর্ডার ফ্রম হাইয়ার অথোরিটি সো জাস্ট এবাইড বাই দিস;। সেনাবাহিনীকে এভাবে জনগনের সামনে ক্লাউন না বানালে কি হত? অনেক অধিনায়ক অফিসারদেরকে আবার বলছেন দেখো সরকারের সব এজেন্সী যেই স্রোতে যাচ্ছে তোমরা সেই স্রোতের প্রতিকুলে যেয়ে এমন কি পরিবর্তন করতে পারবা, যাও কোনোমতে চাকরিটাসহ ক্যান্টনমেন্টে ফেরত আস, কোনোভাবেই কোনো এক্সট্রা ইনিশিয়েটিভ নিয়ে নিজের জীবনটা নষ্ট কোরোনা, আমাদের উপরের আদেশ পালন ছাড়া কিছুই করার নাই, কেউ যদি ইথিক্স দেখাতে চাও সেই দায়িত্ব আমি নেবনা। যেই দেশে তরুন প্রজন্ম এত মিথ্যা , এত হঠকারিতা, এত ধাপ্পাবাজি হঠকারিতা দেখে বড় হচ্ছে তারা কি শিখবে, আমি নিশ্চিত বাংলাদেশে ধীরে ধীরে একটা ফ্রড দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে, যেখানে টিভি খুললেই সারাক্ষন মিথ্যা কথা শোনা লাগে, মনে হচ্ছে সত্য বলাটাই মহাপাপে পরিনত হয়ে গ্যাছে। দেশের অন্যান্য সব সংস্থা যদি সরকারের হয়ে কাজ করে তাহলেত হয়েই গেল আমাদের আর মাঠে নামানোর কি দরকার ছিল। অন্ততঃ আমরা সেনানিবাসে থেকে বলতে পারতাম আমাদের যেহেতু নামানো হয়নি আমরা দেশের মানুষের নিকট অন্ততঃ এই বলে আমাদের নিরপেক্ষ ইমেজটা ধরে রাখতে পারতাম যে আমাদেরতো নামানোই হয়নি। আওয়ামীলীগতো অনেক উন্নয়ন করেছে তাহলে এমনিতেইত তাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো আসার কথা এত নাটকের কি দরকার, ধরি ৭০% ভোটই আওয়ামীলীগ পাবে, আমরা বাকী ৩০% লোকও যাতে তাদের ভোট তার মনের খায়েশ মিটিয়ে তার পছন্দের মার্কায় দিতে পারে সেই ব্যবস্থাও তো করতে পারতাম। এটার নামইতো গনতন্ত্র তাই তো আমরা জানি। আওয়ামীলীগের অনেক লোককে বলতে শোনা যায় আরে ভাই বাংলাদেশের পাবলিকতো ভালনা, অশিক্ষিতের জাতগুলা কোনটা ভাল কোনটা মন্দ সেইটাই বুঝেনা, এক সরকার এক টার্ম থাকলে তারে আর ভোট দিতে চায়না, এই জন্যই তো আমাদের দেশের কোনো উন্নতি হয়না। আমার কথা হল তাহলে আপনারা গনতন্ত্রের বুলি দেন কি জন্য এত্তসব ভোটের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন শত শত টাকা কেন নষ্ট করছে বলে দিলেই হয় এই দেশের জন্য গনতন্ত্র প্রযোজ্য না, এইখানে স্বৈরতন্ত্রই ঠিক আছে কিংবা চীনের মত কমিউনিস্ট সরকার বানিয়ে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রানী বানিয়ে রাখেন। আপনারা গনতন্ত্রের নামে কেন দেশের মানুষের কাছে মিথ্যা বলছেন, কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করে মিথ্যা বলছেন। আওয়ামীলীগের ভাইয়েরা আপনাদের কি সেই দিনের কথা মনে নাই, ২০০৮ সালে আমরা আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের কত সুন্দর পরিবেশ করে দিয়েছিলাম, তাহলে আপনারা কেন পুরো জাতির সাথে এইভাবে বেইমানি করছেন? আপনাদের নিশ্চয়ই সাদ্দাম, গাদ্দাফি, হোসনে মুবারকের পরিনতি সম্পর্কে জানা আছে তারা আপনাদের নেত্রীর চেয়েও বেশী উন্নয়ন করেছেন, এবং অনেক বেশী কর্তৃত্বপরায়ন ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কখনো বিদ্রোহ হতে পারে তারা সেটা কখনো স্বপ্নেও ভাবেনি, তাদেরকে যে গর্ত থেকে বের করে টেনে হিচড়ে মারা হবে তারা সেটা কোনো যুক্তিতে, কোনো হিসেবেই মেলাতে পারেন নি। মানুষ যদি হিরো আলমকে ভোট দিতে চায় তাহলে তারা হিরো আলমকেই ভোট দিবে সেটা তার গনতান্ত্রিক অধিকার, অন্তত এই জায়গায় শেখ হাসিনার খবরদারী করার অধিকার সংবিধান দেয়নি। আমি যেই নির্বাচনী আসনে দায়িত্ব পালন করছি সেখানে আসার পরে পুলিশ, ইউএনও, বিজিবি, অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম ৮০% থেকে ৮৫% লোকই বিরোধী পার্টির সমর্থক, নৌকার লোক ১০-১৫%, কিন্তু বর্তমান এমপি সাহেব খুব ভাল মানুষ, এলাকায় অনেক কাজ করেছেন অতএব সব সংস্থা মিলে যেভাবেই হোক তাকে আবার জেতাতে হবে; থানার ওসি নিয়মিত আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাদের সাথে থানার ভেতরেই মিটিং করে বেড়াচ্ছেন, তাদের সাথে গোপন শলা পরামর্শ করছেন, তাদের কাছ থেকে আদেশ নিচ্ছেন কিভাবে সেটা বাস্তবায়ন করবেন। সব সংস্থার লোকজনই প্রকাশ্যে নৌকাকে যেভাবেই হোক জিতানোর কথা বলছেন। চারিদিকে শুধু সরকারী দলের পোস্টার, রাস্তাঘাট বাজার অবরোধ করে মিছিল, মিটিং সমাবেশ কোথাও অন্য কোন দলের কোন কার্যক্রম নেই, ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর কেমন যেন এক প্রকারের কারফিউ সত্যি সেলুকাস বড় অদ্ভুত এই দেশ, আর এই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমার মত হাজারো আবাল বিনা কারনে কুকুরের মত নির্যাতিত হয়ে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমীতে, সিলেটের এস আই এন্ড টি(স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাকটিক্স ) তে কুকুরের মত নির্যাতিত হয়ে জীবন বাজী রেখে প্রশিক্ষন গ্রহন করে। (একজন মানুষকে যখন গ্যাগিং করা হয় তখন পরিস্থিতিটা এরকম যে চোখের সামনে আজরাইল দেখে) যাই হোক আজ এই মুহুর্তের এতসব ধোকাবাজি, প্রতারনা আর নাটক দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার ঘাম আর রক্তে অর্জন করা ইউনিফর্মটা পরা অবস্থায় নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেই, অথবা লোডেড এসএমজি টা নিয়ে নিজের মাথায় ঠেকিয়ে বার্স্ট ফায়ার করে দেই। বিগত কয়েক বছর যাদের টাকায় আমার বেতন হয় তাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না। তবে আমি যেহেতু একজন সৈনিক শেষটা না দেখে মরব না বলে পন করছি।
সেনাবাহিনী প্রধানের নিকট আমার কিছু কথাঃ
১। আপনি যা করছেন তা যদি চালিয়ে যান তাহলে বাংলাদেশের এক কলংকময় ইতিহাসের খলনায়ক হয়ে থাকবেন, একটা গোটা জাতির সাথে বেঈমানী করার জন্য , একটা দেশপ্রেমিক সুশৃঙ্খল বাহিনীকে কলুষিত করার জন্য, আপনি এবং আপনার চ্যালাচামুন্ডারা সরকারের কাছ থেকে অপরিসীম উপঢৌকন পেয়েছেন, আপনারা খুনি ভাইকে ফাসি থেকে বাচিয়েছেন, আমরা সাধারন সৈনিকরা অফিসাররা কিন্তু এইসবের বেনিফিসিয়ারী না। আমাদের ইউনিফর্মের যে অপমান আপনি করলেন এর ক্ষতিপূরন কি দিয়ে হবে, জাতির কাছে আমরা কি জবাব দিব, আপনি হয়তবা বলতে পারেন অন্তত আওয়ামীলীগের লোকজনত বাহবা দিবে, আপনি যদি সত্যি সেটা ভেবে থাকেন তাহলে আপনি আমার চেয়ে অনেক বেশী ভোদাই, আওয়ামীলীগের লোকজনই আমাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশী ব্যংগ বিদ্রুপ ঠাট্টা করবে, আমাদের আমাদের সেনানিবাসের বাইরের জীবনে হেনস্থা, অপমান, অপদস্ত করবে তারা আমাদেরকে সহজেই বলতে পারবে খুব তো শো শা আওয়াজ দিয়ে আসছিলেন ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন করাইতে, পারেন নাইতো আমাদের সাথে।
২। শেখ হাসিনা হয়তবা আপনার মত কিছু বেঈমানের সহায়তায় আরো ১০ বছর ক্ষমতায় থাকবে কিন্তু আপনি কি পারবেন আরো ১০ বছর সেনাপ্রধান থাকতে, অসম্ভব তাহলে আপনার চ্যালাচামুন্ডারা যারা এত তেল মারছে শেখ হাসিনাকে তারা কোথায় যাবে তাদেরওতো সেনাপ্রধান হয়ে শেখ হাসিনার মসনদের চাটুকার সেনাপতি হওয়ার খায়েশ আছে। আপনি হয়তবা ভাবতে পারেন আপনাকে শেখ হাসিনা নমিনেশন দেবেন আপনি এম পি মন্ত্রী হবেন, খুবি ভুল কথা যেই আসনেই আপনাকে দেয়া হোকনা কেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আপনার মোচ একটা একটা করে টেনে ছিড়ে আপনাকে আসন ছাড়া করবে, আপনি তখন সেনাবাহিনী ক্যাম্পে এসে মায়াকান্না করলেও আমরা কিন্তু উপরের কথাই শুনব। আর আপনি যদি ভাবেন যে আপনি বিদেশে কোথাও চলে যাবেন তাহলে সেখানেও আপনাকে প্রবাসিরা জুতাপেটা করবে। সেদিন যেহেতু আপনার কোনো প্রোটকল, সিকিউরিটি থাকবেনা আপনি টের পাবেন জনগনের শক্তি কাকে বলে। অন্ততঃ এই দৃশ্য দেখার জন্যে হলেও আরো কয়েকটা বছর চাকুরী করব ইনশাআল্লাহ। আর শেখ হাসিনা যেহেতু আপনার মত ভোদাই না, উনি যেহেতু অনেক ধুর্ত একজন মানুষ উনি বেঈমানকে কোনোদিনও কাছে টানেন কিনা সন্দেহ আছে। তার কাজ শেষ হওয়ার পর আপনাকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপের সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে।
৩। যদ্দুর জানি আপনার ছেলেও নতুন কমিশন পেয়ে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছে, সেও কিন্তু সারাজীবন সেনাবাহিনী প্রধানের ছেলে থাকবে না একদিন সেও একজন অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ বেঈমানের ছেলে হবে, আমরা আপামর সেনাসদস্যরা সেটা নিশ্চয়ই ভুলে যাবনা।
৪। সামনের দিনগুলোতে যেহেতু আপনার মত একজন মানুষ আমাদের সেনাপ্রধান থাকবেন আপনি আপনার প্রভু শেখ হাসিনাকে প্রস্তাব করতে পারেন যে সেনাবাহিনীর অস্ত্র গোলাবারুদ সরঞ্জামগুলো ছাত্রলিগকে আর যুবলীগকে ভাগ করে দিয়ে দিতে তারাই দেশ প্রতিরক্ষার কাজ করবে। আর আমাদেরকে রোহিঙ্গাদের সাথে ভাসানচরে পাঠিয়ে দেন আমরা ওখানে ধরিব মাছ খাইব সুখে, কারন আপনার কাছে আপনার বাহিনীর চাইতে আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ যুবলীগ বেশী গুরুত্বপূর্ন, আপনি ইতোমধ্যে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনরত অফিসার, জেসিওদেরকে ছাত্রলীগের সাথে নিছক তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সেনানিবাসে ফেরত নিয়ে এসেছেন, তাদের কপালে কি আছে আল্লাহতায়ালাই ভাল জানেন।
৫। আর আপনার জন্য একমাত্র ভাল উপদেশ হল রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষনা করিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করিয়ে দেশের সকল অনিয়ম অত্যাচার বৈষম্য সন্ত্রাস দূর করে তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জাতিকে ভোটচুরির এই বাজে প্রাক্টিস ও কলংকমুক্ত করুন। সেই সুষ্ঠু ভোটে যদি পুনরায় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে তাতেও আমি করি কারো বিন্দুমাত্র আক্ষেপ থাকবে না। আপনার চ্যালা যদি দেশের একজন চলতি প্রধান বিচারপতিকে নির্মম নিষ্ঠুর অপমানের মাধ্যমে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারে আপনি সেনাপ্রধান হয়েও পারবেন। যদি না পারেন আজকের মধ্যেই পদত্যাগ করুন অন্তত আপনার পত্যাগের মধ্য দিয়ে অন্য কিছু না হলেও আমাদের বাহিনী কলুষমুক্ত হোক।
দেশবাসীর প্রতি আমার কিছু আবদারঃ
১। আপনাদেরকে এত কিছুর পরেও আমি বলব হতাশ হবেন না। আপনারা সবাই মিলে ঝাপিয়ে পড়ুন নির্বাচনের দিন আপনাদের অধিকারের জন্য, আপনি যেই মার্কায় ইচ্ছা সেই মার্কায় ভোট দিন, আপনার ইচ্ছে হলে নৌকায় ভোট দিন, ইচ্ছে হলে ধানের শীষে দিন, ইচ্ছে হলে অন্য যেকোনো প্রার্থীকে ভোট দিন, কিন্তু আপনার ভোটটি আপনিই দিন। আপনার যদি হাজারো মানুষ একত্রে হন পুলিশ আপনাদের কিচ্ছু করতে পারবেনা, ভোটের দিন হাজারো মানুষ একত্র হয়ে থানা ঘেরাও করুন, পুলিশের টহলগুলোকে আইসোলাটেড করে ফেলুন, র‍্যাব বিজিবি সবাইকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন, আমি নিশ্চিত সেনাবাহিনী কখনোই নিরীহ মানুষকে গুলি করবেনা, এটা তাদের অন্তর থেকে আসেনা, হাতেও আসেনা,তাদেরকে মানসিকভাবে প্রশিক্ষিত করা হয় শুধুমাত্র যুদ্ধরত শত্রুকেই গুলি করার জন্য। অতএব অন্তত ভোটের দিন সবাই একসাথে জড়ো হয়ে ভোট দিতে যান, অন্তত গনহত্যার আদেশতো আর শেখ হাসিনা দিতে পারবে না।
২। আমাদের সেনাবাহিনীকে ক্ষমা করবেন, পুলিশ বাহিনীকেও ক্ষমা করবেন, কিন্তু জেনারেল আজিজ , আইজিপি জাভেদ পাটোয়ারি, র‍্যাব ডিজি খুনি বেনজীর, কুখ্যাত ব্রিগেডিয়ার খুনি জিয়া এদেরকে কখনোই ক্ষমা করবেন না, সত্যি কথা বলতে এদের নির্দেশে অনেক আওয়ামীলীগও নির্যাতিত।

আমার প্রানপ্রিয় সেনাবাহিনীর সকল শ্রদ্ধেয় সিনিয়র স্যার, জুনিয়র ব্রাদারস, কোর্সমেট, জেসিও সৈনিক ভাইদের প্রতি আকুল আবেদন আমরা আমাদের এই ইউনিফর্মটাকে আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ যুবলীগের টয়লেট টিস্যু না বানাই।