সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতায় আসছে বিএনপি জোট, ৩০ তারিখ দুপুর থেকেই পালাচ্ছে আওয়ামীলীগ



তাজউদ্দীন

ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি জোটের জন্য একটা সুখবর আছে। পাঠক ভাবছেন এত খারাপ খবরের মাঝে কি হতে পারে সুখের খবর?
২৮ তারিখ সকাল থেকেই বেশ কিছু ভালো খবর হাতে এসেছে। হাসিনা সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিজয় আসছে ঐক্যফ্রন্টের।
তবে………

তবে হলো এক্যফ্রন্টকে কিছু কাজ করতে হবে। ২৮ তারিখ সকাল থেকে যে খবর গুলো হাতে এসেছে তার মধ্যে সবচেয়ে আশাজাগানিয়া খবর হলো, দীর্ঘ ১০ বছর পরে প্রশাসনের সুভবুদ্ধির উদয় হলো।
পুলিশ ও র্যাবের অধিকাংশ সদস্যরা নানা ভাবে নাম গোপন রেখে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের জানিয়েছে তারা ভোটের দিন নিরপেক্ষ থাকবে তবে বাকী কাজটা ভোটারদের করতে হবে।

যে পুলিশ দীর্ঘ ১০ বছর জুলুম নির্যাতন করেছে তারাও এখন পরিবর্তন চাইছে। পুলিশ বলছে তারা কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোটের জন্য কাজ করবে। কারণ তারা জানে এই একদিনই সব পাল্টে যাবে। যারা এতদিন বিরোধীদলের উপর নির্যাতন করেছে সরকারের নির্দেশে চাকরী বাঁচাতে। এই একদিনে জনগন সুযোগ পেলে সরকারই পাল্টে দিতে পারবে তাই পুলিশ নির্বাচনের দিন জনগনের পক্ষে দাড়াবে। তবে গোপালী বা দলদাস পুলিশরা হয়তো সরকারের সুরেই কথা বলতে চাইবে কিন্তু কাজ হবে না। কারণ তাদের সংখ্যাটা সরকারকে বাঁচাতে পারবে না। র্যাবের মধ্যেও এই একই অবস্থা বিরাজ করছে। র্যাবের অধিকাংশ সদস্যরা চাইছে জনগন যেনো ভোট দিতে আসে। তারাও চাইছে পরিবর্তন হোক।

তবে সবচেয়ে বড় সুখের খবর হলো সেনাবাহিনী ২৯ তারিখ রাত থেকে সব নিজেদের কন্ট্রোলে নিয়ে নেবে।
৩০ তারিখ ভোট কেন্দ্রে সরকার সমর্থক পুলিশ র্যাব বা সন্ত্রাসী বাহিনী কোন প্রকার ঝামেলা করলে সেনাবাহিনী শক্তহাতে তা দমন করবে। সেনাবাহিনীর চেষ্টা থাকবে ভোটাররা যাতে নির্ভিগ্নে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ তৈরী করা।

এখন কাজটা ঐক্যফ্রন্টের। যদি ঐক্যফ্রন্ট ভয়ভীতি দূর করে ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারে তবে বিজয় আসবে।

আপনারা কেনো বুঝতে পারছেন না একটা সরকার যতো খারাপই হোক নির্বাচনে ভোটের জন্য সাধু সাজে মাথায় টুপি পড়ে মসজিদে নামাজে যায়, প্রকাশ্য বিড়ি সিগারেট পান করে না, গায়ে ময়লা থাকা বাচ্চাটাকেও কোলে তুলে আদর করে, মনে যতোই দোষ থাকুক মুখে মিষ্টি কথা বলে, মনে যতোই রাগ ক্ষোভ থাকুক নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন ভুল করতে চায় না। সেখানে একের পর এক বিরোধীদলের উপর হামলা বাড়ি ঘরে আগুন দেয়া, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয় ভীতি দেখানো, শক্তিপ্রয়োগ করে নানা অপকর্ম করা, পুলিশ দিয়ে আটকের নামে জনমনে আতংক ছড়ানো সহ সব রকম অপকর্ম করেছে হাসিনা সরকার।
ভাবছেন, কেনো নির্বাচনের আগে এমনটি করছে সরকার?
কারণ একটাই ভোট তারা পাবে না তা জেনে গেছে। তাই যে করেই হোক ভোট বন্ধ বা কেন্দ্র দখল করে সিল মেরেই তাদের জিততে হবে। যদি মানুষ জেগে ওঠে, ভয় ভীতি দূর করে ভোট কেন্দ্রে চলে আসে তবে আওয়ামীলীগের পরাজয় শতভাগ নিশ্চিত।

আরেকটা বিষয় প্রতিটা কেন্দ্রে নিরাপত্তায় থাকবে পুলিশ র্যাব আনসার চৌকিদার মিলে ১০/১২ জন। ভোটের দিন হাজার হাজার ভোটারের সামনে এই ১০/১২ জন সদস্য ভয়ে কাতর থাকবে। কারণ ১০ বছরের দুঃশাসনের কারনে জনগনের চোখের দিকে ভয়েই পুলিশ তাকাতে পারবে না।

আর সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ যতো লীগ আছে পুলিশ ছাড়া তারা রাস্তায় নামতেই ভয় পাবে। কারণ এতদিন এরা পুলিশের শক্তিতে মাস্তানি করেছে। এখন সেই পুলিশ কেন্দ্র পাহারা দিবে আর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিজেদের বাঁচাকে ইয়া নফসি ইয়া নফসি করবে।

যেসব অঞ্চলে ঐক্যফ্রন্ট দলে দলে নেমে আসবে ভোট কেন্দ্রে নিশ্চিত থাকুন সেখানে জয় আসবে। আর যেখানে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা ভয়ে ঘরে বসে থাকবে সেখানে পরাজয় নিশ্চিত।

গোয়েন্দা তথ্যে জানাগেছে ২৮,২৯,৩০ তারিখের সব বিমানের টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। ৩০ তারিখ দুপুর থেকে র্যাব পুলিশের প্রধান কর্তারা ও আওয়ামী সিনিয়ার নেতারা পালাতে শুরু করবে। যদি ঐক্যফ্রন্ট ব্যার্থ হয় তবে গল্পটা হয়তো ভিন্ন হবে।

আবারো বলছি যদি বিজয় চান, স্বাধিনতা ফিরে পেতে চান, গুম হত্যা থেকে বাঁচতে চান,বাক স্বাধিনতা চান, যদি খালেদা জিয়ার মুক্তি চান, যদি জুলুম নির্যাতন থেকে বাঁচতে চান তবে পাঁচ বছর নয় স্রেফ একদিনের জন্য নেমে আসুন। ভোটকেন্দ্রে আসুন ভোট দিন এবং নিজের জীবনের হেফাজত করুন।

নতুবা এর মাশুল গুনে শেষ করতে পারবেন না।