সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রতিশোধের নেশায় দলবদল!



সুফেরমামা, নিউইয়র্ক::

সুলতান মনসুর: জাতির পিতার আদর্শে বেড়ে ওঠা একজন আদর্শবান আওয়ামীলীগ নেতা। সুলতান মনসুরকে অনুসরণ করে এবং তাঁর হাত ধরে অতীতে হাজার হাজার ছাত্রলীগ কর্মী ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন।
দেশপ্রেমের রাজনীতি বলতে যা বুঝায় তা তাঁর অন্তরে ছিল।তাই চাটুকারি রাজনীতি জানেননা বলে সংগঠনের সাথে তাল মেলানো হয়েছে কঠিন ।অন্যান্য সংগঠন থেকে যারা আওয়ামীলীগে ঢুকেছে তারা মুলত চাটুকারি বিদ্যায় মাস্টার্স করা।তারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সব কাজে বাহ্ বাহ্ দিয়েছে। শেখ হাসিনা খুশী হয়ে সামনে এগিয়ে গেছেন।এমন পথে এগিয়েছেন যে দেশের মানুষ শেখ হাসিনার অনেক কিছুই পছন্দ করেনি । যার ফলে জাতির জনকের মেয়ে হয়েও তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেননি।

সুলতান মনসুর প্রকৃত ভাবে জাতির পিতার সৈনিক ও ঐ পরিবারের ভক্ত ছিলেন ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতি হয় এমন পথে তিনি পা বাড়ালে সুলতান তাঁকে আপনজন মনে করে অনুৎসাহিত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা ভাল চোখে দেখেননি।সুলতানও থেমে থাকেননি।প্রধানমন্ত্রীর যেসব কাজ ভাল লাগেনি তার সমালোচনা করেছেন তার বিশ্বস্ত কর্মীদের কাছেও । সেসব কথা প্রধানমন্ত্রীর কানে গেলে তিনি সুলতান নাম তাঁর মন থেকে মুছে দেন।
সুলতানও অনেকটা প্রকাশ্যে তার বিপরীতে চলে যান।নেত্রী সুলতানকে বহিস্কার করেননি আবার দলের নিম্নতম কোন পদে থাকারও সূযোগ দেননি।এভাবে কেটে গেল এক যুগেরও বেশী।
সুলতান আর বাঁচবেইবা কতদিন ?
নেত্রীর করুণার অপেক্ষা করলে সংসদে আর যাওয়া হবে না।যে কোন উপায়ে সংসদে গিয়ে বলতে চান নেত্রী আমি সুলতান মরণের আগে সংসদে এসেছি।
তাই শেখ হাসিনার দুশমন বিএনপির সাথে ঐক্য করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

একজন মান্যবর নেতার চেহারার অধিকারী জনাব মনসুর ছাত্র রাজনীতি থেকে সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতে যোগ দেয়ায় আমজনতার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি।দেশে হাজার হাজার ছাত্রলীগ সহকর্মী ও ভক্ত থাকলেও সাধারণ জনতার সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে।

এম এম শাহীন: সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতি শুরু।অমায়িক আচরণ আর অসাধারণ নেতৃত্বগুন থাকায় মানুষের মনে স্থান করে নিতে তার সময় লাগেনি।সাধারণ জনগন, তৃনমূল কর্মী ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মধুর সম্পর্ক থাকলেও জেলার একজন নেতার মন জয় করতে পারেননি।সেই নেতা এই জেলায় অন্য কেউ মাথা উচুঁ করে কেউ রাজনীতি করুক তা চান না।
বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ২০০১ সালে তাকে নমিনেশন না দিলে শাহীন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে হাজার হাজার ভোট বেশী পেয়ে জয়ী হয়ে প্রমান করেন তিনিই জনপ্রিয় ।
দল থেকে সাস্পেন্ড হন।তবুও দলের হয়ে আন্দোলন সংগ্রামে সম্পৃক্ত থেকে জনপ্রিয়তা ধরে রাখেন।ইদানীং জনাব তারেক রহমান তাকে দেশে গিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে বললে তিনি মেয়র আরিফের নির্বাচনী মাঠে ঘাম ঝরিয়ে কাজ করে বিজয় আনতে সাহায্য করেন।
শাহীন আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে জেলার ঐ নেতার ইচছায় আবারো তাকে নমিনেশন না দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা সুলতান মনসুরকে নমিনেশন দেয়া
হয় ।
রাজনীতি করে নমিনেশন না পাওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার । দলের অন্যজন পেতে পারেন । কিন্তু শাহীনের বেলায় যে হিংসা কাজ করছে তার প্রমান মেলে ,যখন দেখা যায় বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও তাকে না দিয়ে বারবার অন্য দলের প্রার্থীকে এই আসন দান করা হয়।
শাহীন বুঝতে পারেন ঐ নেতার অধীনে তার রাজনৈতিক জীবন অন্ধকার ।তাই অপমানবোধ থেকে প্রতিশোধের নেশায় তিনি বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হন ।

দলবদলকে জনগন ভাল চোখে দেখেনা, তবে দলের অবিচারই উভয় নেতাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

-সুফেরমামা, নিউইয়র্ক।